গাইড
ব্লাইন্ড না পর্দা? ঢাকার ফ্ল্যাটের জন্য সৎ তুলনা
বাংলাদেশের বাসার জন্য ধুলো, ধোয়া, জায়গা, খরচ ও আলো নিয়ন্ত্রণের তুলনা — সাথে সেই তিন জানালার কথা যেখানে পর্দাই এখনো ভালো।
আমরা ব্লাইন্ড বিক্রি করি, সেটি মাথায় রেখেই পড়ুন। তবু সৎভাবে লিখে রাখা দরকার, কারণ ঢাকার ফ্ল্যাটে এমন কিছু জানালা আছে যেখানে পর্দাই ভালো কেনাকাটা — আর ভুল জিনিস লাগানোর চেয়ে সেটি বলে দেওয়াই ভালো।
ধুলো ও পরিষ্কার
এখানে এই যুক্তিটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। পর্দার বুননে ঢাকার ধুলো জমে, আর এর একমাত্র সত্যিকারের সমাধান হলো নামিয়ে ধোয়া, শুকানো ও আবার লাগানো — আধা দিনের কাজ, যা বেশিরভাগ বাসায় ইচ্ছার চেয়ে অনেক কম হয়।
সমতল ব্লাইন্ড জায়গাতেই দুই মিনিটে ভ্যাকুয়াম করা যায়। স্ল্যাটের ব্লাইন্ডে একটু বেশি সময় লাগে, তবু দেয়ালেই থাকে। কিছু নামাতে হয় না, বর্ষায় বারান্দায় কিছু শুকাতেও দিতে হয় না।
সমতল কাপড়ের চেয়ে স্ল্যাটের ব্লাইন্ডে ধুলো দ্রুত চোখে পড়ে, তাই ধুলোই যদি প্রধান অভিযোগ হয়, তবে ভেনিশিয়ানের চেয়ে রোলার বা জেব্রাই ভালো।
জায়গা ও আসবাব
পর্দা ঝোলার এবং সরানোর জন্য জায়গা চায়, আর সরিয়ে রাখলে কাপড়ের স্তূপ জানালার দুই পাশের দেয়ালে বসে। ছোট ফ্ল্যাটে সেটি সত্যিকারের জায়গা। ব্লাইন্ড জানালার ভেতরেই বসে, বাড়তি জায়গা নেয় না।
পর্দার প্রান্ত মেঝে পর্যন্ত নামে, অর্থাৎ যেখানে ধুলো সেখানেই কাপড়। ব্লাইন্ড সিলেই থেমে যায়।
আলো নিয়ন্ত্রণ
বাস্তবে পর্দা দুটি অবস্থাতেই থাকে: খোলা বা বন্ধ। পাতলা পর্দার সাথে ভারী পর্দা দিলে মাঝামাঝি একটি অবস্থা পাওয়া যায়, তবে দুই সেট কাপড় কিনতে ও ধুতে হয়।
ব্লাইন্ড ধাপে ধাপে বদলায়। ভেনিশিয়ান কাত হয়, জেব্রা স্ট্রাইপ সরায়, ট্রিপল শেড তিনটি কাপড়ের মধ্যে ঘোরে। এখানেই পার্থক্য সবচেয়ে বেশি — ব্লাইন্ড এমন অবস্থাগুলো দেয় যা পর্দার নেই।
খরচ
সরাসরি তুলনা কিছুটা অন্যায্য, কারণ মাপার পদ্ধতিই আলাদা — পর্দার দাম কাপড়ের দৈর্ঘ্য ও কুঁচি অনুযায়ী, ব্লাইন্ডের দাম তৈরি ক্ষেত্রফল অনুযায়ী। সাধারণভাবে একই জানালায় সাধারণ রোলার ব্লাইন্ডের দাম লাইনিং দেওয়া পর্দার চেয়ে কম, আর ট্রিপল শেড বা চওড়া ভেরি শেডের দাম বেশি।
যে তিন জানালায় আমরা এখনো পর্দাই বলব
১. যে শোবার ঘরে চেহারাটাই আলোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কাপড়ের পূর্ণ পর্দা যেকোনো ব্লাইন্ডের চেয়ে উষ্ণ ও নরম দেখায়; ঘর যদি এমনিতেই যথেষ্ট অন্ধকার হয়, পর্দাই কিনুন। ২. ধুলোর সমস্যা নেই এমন ঘরে খুব উঁচু জানালা। পর্দা উচ্চতা সহজে সামলায়; নয় ফুটের ব্লাইন্ড দিনে দুবার ওঠানো-নামানো ভারী কাজ। ৩. যে ঘরে শব্দ একটু নরম করতে চান। ভারী পর্দা ঘরের শব্দ কিছুটা কমায়। শব্দের ব্যাপারে ব্লাইন্ড প্রায় কিছুই করে না, আর আমরা উল্টোটা দাবি করব না।
ঢাকার বেশিরভাগ ফ্ল্যাটের বাস্তব উত্তর
যেসব জানালা প্রতিদিন ব্যবহার করেন এবং যেগুলোতে রোদ পড়ে, সেখানে ব্লাইন্ড। আর চাইলে এক-দুটি জানালায় পর্দা — যেখানে ঘরের চেহারাটাই মূল কাজ করছে। এই মিশ্রণে নিয়ন্ত্রণ আর কম রক্ষণাবেক্ষণ দুটোই পাবেন, অথচ নরম ভাবটাও একেবারে হারাবে না।